শারীরিক সক্ষমতা নয় মানষিক শক্তিতেই স্বাবলম্বী মোশারফ


শারীরিক সক্ষমতা নয় মানষিক শক্তিতেই স্বাবলম্বী মোশারফ
শারীরিক সক্ষমতা নয় মানষিক শক্তিতেই স্বাবলম্বী মোশারফ
সমাজে সুস্থ, সুন্দর ও স্বচ্ছল জীবন যাপনের জন্য শারীরিক সক্ষমতা যেমন জরুরী তার থেকে বেশি জরুরী মনের জোর আর কাজ করার মানষিকতা । এমনই এক উদাহারণ তৈরী করেছেন ভাঙ্গুড়া উপজেলার দহপাডা গ্রামের বাসিন্দা মোশারফ হোসেন শারিরীক প্রতিবন্ধী এই ব্যক্তির বাম পায়ে সমস্যার জন্য ভালোভাবে হাঁটতে পারেন না। পিতা-মাতা নেই সাত ভাই বোনের মধ্যে সবার ছোট মোশারফ হোসেন। নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে তিনি সমাজের আর দশজন মানুষের মত মাঠে ঘাঠে পরিশ্রম করার মত কাজ করতে পারেন না এতে তাঁর সংসারে অভাব-অনটন ছিল নিত্য সঙ্গী। পার্শ্ববর্তী গ্রামের শিউলী খাতুন এর সাথে ২০১২ সালে বিয়ে হয় এবং অভাবের সংসারেই জন্ম নেয় তাঁদের একমাত্র ছেলে মোঃ কিশমত আহমেদ। তিন সদস্যে সংসারে শারীরিকভাবে অক্ষম মোশরারফই ছিল একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কিভাবে সংসার চলবে আর কিভাবেই বা সন্তান মানুষ করবেন তা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় থাকতেন।
মানব সেবা অভিযান সংস্থার কর্মী দহপাডা সমিতিতে প্রতিবন্ধীদের জন্য সুদ মুক্ত ঋণের বিষয়ে আলোচনার করলে সদস্যগণ মাঠসংগঠককে মোশারফ এর বিষয়ে অবগত করেন। সংস্থার মাঠসংগঠক মোশারফ এর সাথে দেখা করে উক্ত ঋণ বিষয়ে আলোচনা করলে এতে মোশারফ আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখতে থাকেন। স্বপ্ন বাস্তবায়নের আশায় ২০২৪ সালে ১০ (দশ) হাজার টাকা সুদ মুক্ত প্রতিবন্ধী ঋণ গ্রহণ করেন। ঋণের টাকায় সে একটি সেলাই মেশিন ক্রয় করে এবং স্বল্প পরিসরে টেইলার্স ব্যবসা শুরু করেন। ধীরে ধীরে প্রসারিত হতে থাকে তার ব্যবসা পরবর্তীতে আরও একবার তিনি সুদ মুক্ত প্রতিবন্ধী ঋণ গ্রহণ করেন এবং দর্জি ব্যবসায় তিনি মূলধন বিনিয়োাগ করেন। বর্তমানে সেলাই মেশিনের সংখ্যা(০৩) তিনটি এবং বিভিন্ন টেইলার্স থেকে অর্ডার নিয়ে কাজ করেন। মোশারফ এর এই কাজে তাঁর স্ত্রী শিউলী খাতুন সাধ্যমত সহযোগিতা করেন। বর্তমানে তাঁদের পরিবারে অভাব নেই একমাত্র ছেলে বর্তমানে ৫ম শ্রেণিতে লেখাপড়া করছে।
পরবর্তীতে তাকে সুদ মুক্ত ঋণ নিতে বলা হলেও তিনি বলেন ‘প্রতিবন্ধী মানুষ বলে কেউ ঋণ দিতে চাইত না, আল্লাহর রহমতে ‘মানব সেবা অভিযান’ সংস্থার সহযোগীতায় আমি এখন স্বাবলম্বী আর সুদমুক্ত ঋণ নিবনা আমার পরিবর্তে অন্য একজন প্রতিবন্ধীকে এই ঋণ দিয়েন তাহলে তিনি উপকৃত হবেন’। বর্তমানে মোশারফ হোসেন সমিতির অন্যান্য সদস্যের মত সাপ্তাহিক কিস্তি ১৫০০০/- (পনের) হাজার টাকা (জাগরন) ঋণ গ্রহণ করে নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করছেন। তিনি বিভিন্ন টেইলার্স হতে এবং এলাকার লোকজনের পোশাকের অর্ডার নিয়ে কাজ করেন আর তাঁর স্ত্রী শিউলী খাতুন উক্ত মালামাল বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করেন।
বর্তমানে তার সংসারে সচ্ছলতা ফিরে এসেছে প্রতিমাসের আয় থেকে প্রয়োজনমত খরচ করতে পারেন পাশাপশি সঞ্চয়ও করছেন। ভবিষ্যতে আরো সেলাই মেশিন ক্রয় করে অস্বচ্ছল পরিবারের মানুষকে সাথে নিয়ে দর্জির কাজ বড় আকারে করতে চান। সেই সাথে কিছু মানুষের কর্মসংস্থান যাতে সেই দিকেও দৃষ্টি রেখে তিনি সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। পরিশেষে সুদমুক্ত ঋণ দিয়ে স্বাবলম্বী হতে সহযোগিতার জন্য তিনি মানব সেবা অভিযান সংস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন সারা দেশে অন্যান্য সংস্থাগুলো যেন আপনাদের মতো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায় তাহলে আমার মত প্রতিবন্ধী মানুষগুলো সহযোগিতা পেয়ে স্বাবলম্বী হতে পারবে।
